মেটকাফ টাউন হল মিউজিয়াম | কলকাতার নতুন দর্শনীয় স্থান

মেটকাফ হল মিউজিয়াম | ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নতুন দর্শনীয় স্থান

মেটকাফ হল কোলকাতা সিটি ( Metcalfe town hall museum Kolkata in Bengali)

আপনি কি আধ ঘন্টায় কোলকাতা সংস্কৃতি , ঐতিহ্য , ও শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হতে চান ? জানেন কি কোন বিষয় গুলি কোলকাতা কে কোলকাতা বানায়? কোলকাতা অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন এই আর্টিকেল টি , তাই পড়তে থাকুন। কলকাতায় যে হেরিটেজ বিল্ডিং গুলি আছে তার মধ্যে মেটকাফ হল অন্যতম। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে মেটকাফ টাউন হল কে অনায়াসে রাখা যেতেই পারে।

Read in English: – Metcalfe Town Hall Kolkata Museum Exhibition West Bengal

স্যার চার্লস মেটকাফ এর নামেই মেটকাফ টাউন হল তৈরি হয়েছে ।স্ট্র্যান্ড রোড ও হেয়ার স্ট্রিটের ঠিক মিলন স্থল এই মেটকাফ হল অবস্থিত। গেট পেরিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে সারি সারি থাম দিয়ে তৈরি এই অট্টালিকা। এখানে মোট 30 টি থাম আছে। থাম গুলি বেসমেন্ট থেকে সোজা উঠেগেছে একেবারে ছাদ অবধি। মেটকাফ হল পাঁচটি হল ঘর যুক্ত এবং দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন। এই ভবন টি এথেন্সের ‘টেম্পল অব দ্য উইন্ডসের’আদল তৈরি।

Metcalfe town hall kolkata | First library in india | The Heritage museum timings

১৮৪৪ সালের এর জুন মাসে কোলকাতা প্রথম লাইব্রেরি তৈরি হয় এই মেটকাফ হলেই। তখন এর নাম ছিল পাবলিক লাইব্রেরি।
২০১৮ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া মেটকাফ হল কে হেরিটেজ বিল্ডিং হিসাবে ঘোষণা করে এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এটিকে একটি স্থায়ী প্রদর্শনী হল হিসাবে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। হলের নিচের তলার ঢোকার সিঁড়ি থেকেই শুরু হয়েছে নিপুন হাতে দেওয়া সুন্দর আল্পনা যা দেখে সকলেই মুগ্ধ হবে।

মেটকাফ টাউন হল মিউজিয়াম
মেটকাফ টাউন হল মিউজিয়াম

মেটক্যাফ হলের ইতিবৃত্ত

স্যার চার্লস থিওফিলাস মেটকাফ ছিলেন ভারতবর্ষের একবছরের গভর্নর জেনারেল। সময় টি ছিল ১৮৩৫-৩৬ পর্যন্ত । তবে মেটকাফ হল তৈরির কাজ শুরু হয় ১৮৪০ সালে ১৯ ডিসেম্বর, ড: জেমস গ্রান্ট এই হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের পরিকল্পনা করেছিলেন সি.কে. রবিনসন। মেটকাফ হল গড়া শেষ হয় ১৮৪৪-এ। ১৯০৩ সালে ৩০ শে জানুয়ারী মেটকাফ হল এর লাইব্রেরি টি “Imperial Library” তে পরিণত হয়।

পরে ১৯২৩ সালে লাইব্রেরিটি এখান থেকে আলিপুর এর বেলভেডিওর এস্টেট এ স্থানান্তরিত করা হয়। যা বর্তমানে ন্যাশনাল লাইব্রেরি নাম পরিচিত। বর্তমানে এখানেও পুরোনো বিল্ডিং টিকে মিউজিয়াম এ পরিণত করা হয়েছে। এবং নতুন ভাষা ভবন বিল্ডিং এ লাইব্রেরি টি কে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মেটকাফ হল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধীনস্ত হবার পর “আমি কোলকাতা” এই থিম কাজ শুরু হয়। পুরো হল টিকে ভিতর ও বাইরে থেকে রেনোভেট করে নতুন করে সাজানো হয়েছে।

পড়ুন :- কোলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর মেলা ভ্রমণ গাইড

মেটকাফ টাউন হলের ভিতর কি আছে ?

হল এ ঢুকতেই দেখতে পাবেন পুরোনো কোলকাতা বিখ্যাত, সুসজ্জিত হাতে টানা রিক্সা। ভিতরে আর কি আছে আসুন দেখে নেওয়া যাক।ভিতরে ঢুকেই দেখতে পেলাম একটি দারুন জিনিস একটি ফ্রেম এর উপর আলো ফেলে কি সুন্দর একটি আল্পনার শেডও তৈরি করা হয়েছে। তারপর বোতাম প্রেস করে হ্যান্ড শ্যাডোওগ্রাফিমাধ্যমে অডিও ভিজ্যুয়াল শো দেখতে পেলাম। পুরোনো আর নতুন কলকাতা সিটির সাদা কালো ছবি, ঘুরে ঘুরে ছবি দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম দোতলার সিঁড়ির কাছে। দোতলায় ওঠার সময় দেখতে পেলাম গোটা দেয়াল জুড়ে সেই সময়ের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল এর ছবি ।ওপরের দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে পুরোনো বাংলা ছায়াছবি র পোস্টার, বিখ্যাত বিখ্যাত বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদ, সাহিত্য,কবিতা ,নাচ , গান,নাটক, সিনেমা , থিয়েটার এর ছবি।

দোতলার ঘরে প্রথমেই চোখে পড়লো একটি নৌকা একটি বিশাল ডিসপ্লের মাধ্যমে নদীর জলের তরঙ্গ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তার পাশে আবার বিস্ময় সেখানে অনেক গুলি জানালা তৈরি করা হয়েছে এবং বিখ্যাত কিছু ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে , দেখে মনে হবে যেন জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে কোলকাতা আস -পাশ। আর দেয়ালে ঝোলানো আছে লুপ্তপ্রায় লেটার বক্স, আরো কত কি বলে শেষ করতে পারবো না , শুধু দু চোখ ভোরে চেয়ে ই রইলাম ।

মেটকাফ টাউন হল মিউজিয়াম

তার পশে রাখা আছে কোলকাতা অন্যতম সংস্কৃতির নিদর্শন কুমোরটুলির দূর্গা, আর আছে আমাদের প্রিয় ক্যারাম বোর্ড , চাইলে খেলেও নিতে পারেন। এছাড়াও আছে বাঙালির বিচিত্র খাদ্যাভ্যাসের ছবি, যেমন চিংড়ি, ইলিশ, বিরিয়ানি , কেক থেকে শুরু করে টেরিটি বাজারের চাইনিস ফুডআর একটি ঘরে প্রবেশ করার পর দেখতে পেলাম পুরোনো কবিতা ও বই এর নমুনা চলতে চলতে দেখতে পেলাম টাইপ রাইটার, তৎকালীন বিখ্যাত পেইন্টিংস , নানা ধরণের ছবির কোলাজ , আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে পুরোনো বিজ্ঞাপন এর পোস্টার,প্যারির মিষ্টি, এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ডের সিগারেট , বহু বছরের পুরোনো বাংলা ক্যালেন্ডার ! চলচিত্রের ছবির বিজ্ঞাপন ও বায়োস্কোপ এর নমুনা ।

দেখলাম বাঙালি বিয়ের অপরিহার্য টোপর , বিশাল সাইজ এর একটি টোপর খুব সুন্দর ডেকোরেশন করে সাজানো আছে। এতো কিছু একদিনে দেখার পর সত্যি মাথা কেমন হচ্ছিলো। আর ধন্যবাদ জানাই তাদের কে যারা আমাদের জন্য এতো কিছু এক ছাদের তলায় সাজিয়ে রেখেছে। সব মিলিয়ে সত্যি নিজেকে বাঙালি বলে গর্ব হচ্ছে।

পড়ুন :- পুরুলিয়া অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ গাইড

মেটকাফ হল মিউজিয়াম ভিজিট করার সময়

এই হল টি মঙ্গল বার থেকে রবিবার সকাল ১০ তা থেকে বিকেল ৫ তা অবধি খোলা থাকে। সোমবার বন্ধ থাকে। কম খরচে বেড়ানোর জায়গা গুলির মধ্যে এটিতে রাখতে পারেন। যদিও এন্ট্রি এখনো ফ্রি।

মেটকাফ টাউন হল কিভাবে আসবেন?

মেটকাফ হল আসতে হলে ডালহৌসি জিপও আস্তে হবে সেখান থেকে ৫ মিনিট এর হাঁটা পথ। এছাড়াও মেট্রো তে এসপ্ল্যানেড নেমে হাওড়া গামী যেকোনো বাস ধরে পৌঁছে যান শিপিং কর্পোরেশন বা মিলেনিয়াম পার্ক স্টপেজ এ। এছাড়াও চক্র রেল ধরে বি বা দি বাগ স্টেশন হয়েও আস্তে পারেন।

ট্রাভেল ভিডিও দেখতে আমার ইউটিউব চ্যানেল ভিসিট করতে পারেন।

I Need 5 Second More From You To Share My Work On Your Circle.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।