আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিচিতি ও সমস্ত তথ্য

পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য হল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। ১৯৫০ সালে ২৬ শে জানুয়ারী এই রাজ্যটি তৈরী হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতা। পূর্বে কোলকাতাই ছিল ভারতের রাজধানী কিন্তু পরবর্তীকালে তা পরিবর্তন হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম রাজ্য।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।

Table of Contents

পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল ও জলবায়ু

পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান ৮৫ ডিগ্রি ৫০ মিনিট থেকে ৮৯ ডিগ্রি ৫০ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশ, এবং ২১ ডিগ্রি ৩৮ মিনিট থেকে ২৭ ডিগ্রি ১০ মিনিটের উত্তর অক্ষাংশ।

পশ্চিমবঙ্গ ক্রান্তীয় জলবায়ুর অন্তর্গত একটি রাজ্য। এটি উত্তরে হিমালয় পর্বত থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই কারণে উত্তরের জেলাসমূহে সারা বছর শীত বিরাজ করে।পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এখানে বিভিন্ন রকম ঋতু বৈচিত্র্য দেখা যায়। 

পশ্চিমবঙ্গের ঋতুসমূহ

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ঋতুসমূহ হলো গ্রীস্ম, বর্ষা, শরৎ, এবং শীতকাল। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত থাকে গ্রীস্মকাল এবং এপ্রিল মাস হলো উষ্ণতম মাস। এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিক তাপমাত্রার জন্য মাঝে মাঝে প্রবল নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ফলে হঠাৎ করে পরিবেশের উষ্ণতা কমে যায়।এই সময় পশ্চিমবঙ্গের ডেল্টা অঞ্চলে প্রচন্ড আদ্র গ্রীস্মকাল এবং পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে শুস্ক শীতকাল বিরাজ করে। বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় ঘন ঘন খরা দেখা যায়।  

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষাকাল শুরু হয়। বঙ্গোপসাগর থেকে আগত জলীয় বাস্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত ঘটে। রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ২০০ থেকে ৪০০ সেমি বৃষ্টিপাত হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে ২০০ সেমি এবং গাঙ্গেয় সমভূমি এবং মধ্য অঞ্চলগুলিতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ সেমি বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষাকালে কলকাতায় বার্ষিক ১৫৮২ মিমি বৃষ্টিপাত ঘটে।  

এরপর সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয় শরৎকাল। পশ্চিমবঙ্গের শরৎকালটি বেশ শীতল ও মনোরম হয়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় শীতকাল এবং থাকে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত। এইসময় পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের তাপমাত্রা খুব কম থাকে। ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। শীতকালের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।

পশ্চিমবঙ্গের জীবজগৎ

পশ্চিমবঙ্গের ৪৬৯২ বর্গকিমি জায়গা জুড়ে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল যা বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান। বিখ্যাত বেঙ্গল টাইগার, এক শৃঙ্গীয় গণ্ডার, ভারতীয় চিতাবাঘ, লাল পান্ডা এবং হিমালয়ের কালো ভাল্লুক, চিতল ও সম্বর (হরিণ), ভারতীয় হাতি , ব্রাহ্মণি হাঁস, এবং ভারতীয় কোবরা, সাদা-লেপযুক্ত পিট ভাইপার, পাইথন, কুমির, লবণাক্ত জলের কুমির, ঘড়িয়াল প্রভৃতি প্রজাতির দেখা মেলে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনেও বিভিন্ন ধরণের ইকোসিস্টেম দেখা যায়। এছাড়াও উত্তরের পর্বত বাস্তুসংস্থান, রাজ্যের প্রধান অংশ জুড়ে বনাঞ্চল বাস্তুসংস্থান, পশ্চিমাঞ্চলে স্বাদু জলের বাস্তুসংস্থান, দক্ষিণে ম্যানগ্রোভ বাস্তুসংস্থান এবং উপকূলীয় সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানএ  বিভিন্ন ধরণের ইকোসিস্টেম দেখা যায়।

আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিচিতি ও সমস্ত তথ্য
সুন্দরবন

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত অভয়ারণ্যগুলির নাম হ’ল:

  • বল্লভপুর অভয়ারণ্য
  • বেথুয়াহারি অভয়ারণ্য
  • বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য
  • বক্সা টাইগার রিজার্ভ
  • চাপড়ামারী অভয়ারণ্য
  • চিলাপাটা বন
  • চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য
  • গোরুমারা জাতীয় উদ্যান
  • হলিডে দ্বীপ অভয়ারণ্য
  • জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান
  • নেউরা ভ্যালি জাতীয় উদ্যান

পশ্চিমবঙ্গে ব্রিটিশ শাসন

ভারতের পূর্ব দিকে এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিকে বাংলাদেশের সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি অবস্থিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের পর পশ্চিমবঙ্গের উপর নিজেদের একছত্র আধিপত্য স্থাপন করেছিল। এর পর বাংলার রাজস্ব আদায়ের অধিকার কোম্পানি নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল। ১৭৬৫ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি স্থাপিত হয়েছিল এবং ১৭৭২ সালে কলকাতা ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী হিসাবে ঘোষিত হয়েছিল।

১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতাই ছিল ভারতের রাজধানী। পরবর্তীকালে  কলকাতা থেকে দিল্লীতে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে ব্রিটিশকর্তৃক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জব চার্নক একটি যোগ্য বাণিজ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সূতানুটি, গোবিন্দপুর ও কোলিকাতা নামে তিনটি বৃহত্তম গ্রামকে নিয়ে একটি অঞ্চল গঠন করেন এবং তারই নাম দিয়েছিলেন  কলকাতা। বর্তমানে এই মহানগরটি হল পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী।

১৭৭০-সালের ছিয়াত্তরের মনান্তর নামক ভয়ানক দুর্ভিক্ষের ফলে বাংলায় বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।এই দুর্ভিক্ষ   ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির  ভয়ানক অত্যাচারী শাসনের পরিচয় দিয়েছিলো। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের দুর্যোগের পর বাংলার নিয়ন্ত্রণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির থেকে ব্রিটিশ শাসকদের হাতে চলে যায়। সিপাহী মঙ্গল পান্ডের উদ্যোগে বাংলার ব্যারাকপুরের সেনা ছাউনিতে সংঘটিত সিপাহী বিদ্রোহ ছিল বাংলার এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। 

ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে ১৯০৫ সালে  পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলটিকে পূর্ববঙ্গ থেকে পৃথক করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবিভাগের এই প্রয়াস শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ১৯১১ সালে এই  বঙ্গপ্রদেশকে আবার একত্রিত করা হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তরে বাংলায় ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের মতো বিপ্লবী দলগুলি বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।

পড়ুন:- ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনোত্তর পশ্চিমবঙ্গ

১৯৫০ সালে রাজা  জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভারত সরকারের সাথে একটি চুক্তি বদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি কোচবিহার রাজ্যকে পশ্চিমবঙ্গ জেলার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এরপর ১৯৫৫ সালে চন্দননগরকেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিহারের কিছু অঞ্চল যেখানে  বাংলা-ভাষী মানুষের সংখ্যা বেশি সেই অঞ্চলটিকেও পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর  পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রবল অসন্তোষ শুরু হয়ে যায় ।  

১৯৭০ ও ১৯৮০ সালের মধ্যে  বিভিন্ন ধর্মঘট, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ও মার্ক্সবাদী-নকশালবাদী আন্দোলনের ফলে রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো একদম ভেঙে পড়ে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি শরণার্থী বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আশ্রয় নেন। 

poschimbongo

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে পরাজিত করে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপরই  রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক পরিবর্তন সূচিত হয় যা বাংলার শাসন পরিকাঠামোয় ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

কিন্তু  ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত, ২০০৯ সালের লোকসভা ও ২০১০ সালের পৌরনির্বাচনে শাসক বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। আবার শিল্পায়নের জন্য কৃষি জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে শাসক দলের  সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের একাধিক সংঘর্ষ ঘটতে থাকে। অবশেষে ২০১১ সালের বামফ্রন্ট সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বিধানসভা নির্বাচনে  পরাজিত হয়। এইভাৱে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটে।

পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান এবং প্রতিবেশী রাজ্য ও দেশ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে আছে হিমালয় পর্বত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্যগুলি হল উত্তরে সিকিম , উত্তর-পূর্বে অসম , দক্ষিণ-পূর্বে ওডিশা ,পশ্চিমে ঝাড়খন্ড এবং বিহার। প্রতিবেশী দেশগুলি হল উত্তরে ভুটান, পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তর-পশ্চিমে আছে নেপাল ।

পশ্চিমবঙ্গের আয়তন

পশ্চিমবঙ্গের আয়তন প্রায় ৮৮,৭৫২ বর্গকিলোমিটার। ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে আয়তনের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান চতুর্থ. যা সমগ্র ভারতের আয়তনের প্রায় ২.৬৭% ।

পশ্চিমবঙ্গের জেলাসমূহ

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৩ টি জেলা এবং পাঁচটি বিভাগ আছে। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলাসমূহ একত্রিত হয়ে বিভাগ গঠন করে ।

বিভাগগুলি ও তার জেলা সমূহ হল নিম্নরূপ :

  • জলপাইগুড়ি বিভাগ: দার্জিলিং জেলা, কালিম্পং জেলা, আলিপুরদুয়ার জেলা, জলপাইগুড়ি জেলা, কোচবিহার জেলা
  • প্রেসিডেন্সি বিভাগ: উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা, কলকাতা জেলা, হাওড়া জেলা, নদিয়া জেলা,
  • বর্ধমান বিভাগ: পূর্ব বর্ধমান জেলা, পশ্চিম বর্ধমান জেলা, বীরভূম জেলা, হুগলী জেলা
  • মালদা বিভাগ: উত্তর দিনাজপুর জেলা, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা , মালদহ জেলা, মুর্শিদাবাদ জেলা
  • মেদিনীপুর বিভাগ: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা, পুরুলিয়া জেলা, বাঁকুড়া জেলা, ঝাড়গ্রাম জেলা
বর্ধমান ভ্রমণ

পশ্চিমবঙ্গের নামকরণ কে করেন?

১৯৪৭ সালে ভারতের বাংলা প্রদেশকে ধর্মের ভিত্তিতে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। পূর্ব ভাগ পাকিস্থান রাষ্ট্রের পূর্ব বাংলা ও পশ্চিমাঞ্চলকে স্বাধীন ভারতের অঙ্গরাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এই রাজ্যের নামকরণ পশ্চিমবঙ্গ করা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের ব্লক কয়টি ?

পশ্চিমবঙ্গে মোট ৩৪১টি ব্লক আছে

পশ্চিমবঙ্গের নাম পশ্চিমবঙ্গ হওয়ার কারণ কি ?

এটি বাংলা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এর নামকরণ করা হয় পশ্চিমবঙ্গ। এর পূর্বাঞ্চলের নাম হয় পূর্ববঙ্গ যেটি বর্তমানের বাংলাদেশ ।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান প্রধান ভাষাসমূহ

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ভাষা বা সরকারি ভাষা হল বাংলা। তবে হিন্দি , নেপালি , সাঁওতালি, উর্দু, ও ওড়িয়া ভাষারও প্রচলন আছে ।

পড়ুন: ৫ দিনের গিরিডি মধুপুর দেওঘর ভ্রমণ গাইড কলকাতা থেকে

পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী

দার্জিলিঙে গোর্খা , তিব্বতি , শেরপা , নেপালি উপজাতির লোক বাস করতে দেখা যায়। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতাল, কোল , মুন্ডা , টোটো প্রভৃতি উপজাতির লোক বসবাস করে। কলকাতায় চীনা, তামিল, গুজরাতি, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান উপজাতির লোক বসবাস করে ।

পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি

পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে হিন্দুধর্মের প্রভাব সর্বাধিক।

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান

পশ্চিমবঙ্গের উলেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি হল বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট ক্যালকাটা , যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় , নেতাজি সুভাষ ওপেনে ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কলকাতা , রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি, রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ ইউনিভার্সিটি বেলুড়, বিশ্ব ভারতী ইউনিভার্সিটি প্রভৃতি ।

পড়ুন: হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ

পশ্চিমবঙ্গের লোক নৃত্যকলা ও সংগীত

পশ্চিমবঙ্গের লোকনৃত্যের মধ্যে পুরুলিয়া ছৌ , মালদার গম্ভীরা , গৌড় নাচ , রাভা ও বরো উওপজাতি নৃত্য, বীরভূম জেলার টুসু, ঝুমুর, বীরভূম জেলায় রায়বেঁশে নৃত্য উলেখযোগ্য
ভাওয়াইয়া , ভাটিয়ালী , গম্ভীরা , বাউল , কবিগান , আলকাপ , পটুয়া সংগীত হলো পশ্চিমবঙ্গের আদি গান ।

পশ্চিমবঙ্গের বড় জেলা কোনটি ?

পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় জেলা হল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ।

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় জেলা

পশ্চিমবঙ্গের ছোটো জেলা কোনটি ?

পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে ছোটো জেলা হল কলকাতা ।

পশ্চিমবঙ্গের নবীনতম জেলা কোনটি ?

পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে নতুন জেলা হল পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান (প্রতিষ্ঠা দিবস: ৭ ই এপ্রিল ২০১৭) ।

পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা কত ?

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের চতুর্থ জনবহুল রাজ্য। ২০২১ সালের গণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ১০ কোটিরও কিছু বেশি হবে

পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনসংখ্যা কত ?

পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ % হল মুসলিম। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যা দেখা যায় ।

পড়ুন: কলকাতা জাতীয় গ্রন্থাগার

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকলা

পোড়ামাটির শিল্পকলা হলো পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকলার নিদর্শন। বিষ্ণুপুরের জোড় বাংলা, পঞ্চরত্ন, নবরত্ন মন্দিরগুলোয় এর নিদর্শন আছে ।পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার পোড়ামাটির পুতুল, হস্ত শিল্পের এক উলেখযোগ্য উদাহরণ। পটচিত্র, বাংলার সব থেকে প্রাচীন চিত্রকলা। এর মাধ্যমে বাংলার ভৌগোলিক পরিবেশ , বা প্রাচীন গল্পকথা তুলে ধরা হয় ।

পশ্চিমবঙ্গের উৎসব

শারদীয়া দুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় উৎসব। অন্যান্য উৎসবগুলির মধ্যে কালিপূজা , সরস্বতী পূজা, দোলযাত্রা, রথযাত্রা ,পয়লা বৈশাখ, ভাতৃ দ্বিতীয়া উৎসব, জয়দেব কেন্দুলী মেলা মহাসমরোহে পালন করা হয় ।

কোলকাতার দূর্গা পূজা

পশ্চিমবঙ্গের নদ নদী সমূহ

উত্তরের নদ -নদী: তিস্তা , তোর্সা , মহানন্দা , রায়ঢাক , জলঢাকা প্রভৃতি ।
সমভূমি অঞ্চলের নদ-নদী : গঙ্গা ।

পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের নদ-নদী : দামোদর , সুবর্ণরেখা , অজয় , ময়ূরাক্ষী , রূপনারায়ণ , কংসাবতী প্রভৃতি ।

দক্ষিণে সুন্দরবন অঞ্চলেই নদ-নদী : মাতলা , ইচ্ছামতী , গোসাবা , বিদ্যাধরী , পিয়ালী , ঠাকুরান , সপ্তমুখী , কালিন্দী প্রভৃতি ।

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া কেমন ?

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম আবহাওয়া বিরাজ করে। গ্রীষ্ম , বর্ষা , শরৎ ও শীত এই চারটি ঋতুই এখানের প্রধান ঋতু। গ্রীস্মকালের তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো এবং শীতকালের গড় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির মতো থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বয়ে যাওয়া মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এখানে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ২৫০ সেন্টিমিটার এর মতো বৃষ্টিপাত হয়। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উপকূলে প্রবল ঝড় বৃষ্টি হয়। শীতকালে মাঝে মাঝে দার্জিলিঙে তুষারপাত হয় ।

পশ্চিমবঙ্গের কিছু বিখ্যাত স্পোর্টস স্টেডিয়াম

ক্রিকেট ও ফুটবল হলো পশ্চিমবঙ্গের সেরা খেলা । পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় স্পোর্টস ক্লাবগুলি হল মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব , ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব প্রভৃতি। বিখ্যাত স্টেডিয়াম গুলি হলো ইডেন গার্ডেন , যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন , রবীন্দ্র ভারতী স্টেডিয়াম , নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম ইত্যাদি।

পশ্চিমবঙ্গের মোট কটা বিমানবন্দর আছে?

পশ্চিমবঙ্গে ২ টি আন্তর্জাতিক এবং  ৬টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর  এবং ৫ টি সামরিক বিমানবন্দর  আছে।  

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটি  হলো : ১)  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দমদম, কলকাতা) ও ২) বাগডোগরা বিমানবন্দর (শিলিগুড়ি)।  

অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটি হলো : ১)কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর,২) বালুরঘাট বিমানবন্দর,৩) বার্ণপুর বিমানবন্দর, ৪) মালদা বিমানবন্দর , ৫) কোচবিহার বিমানবন্দর, ৬)  বেহালা ফ্লাইং ক্লাব। 

সামরিক বিমানবন্দর গুলি হলো : ১) হাসিমারা বিমানঘাঁটি ২) কলাইকুন্ডা বিমানঘাঁটি ৩) পানাগড় বিমানঘাঁটি  ৪) ব্যারাকপুর বিমানবাহিনী স্টেশন  ৫) সালুয়া বিমানঘাঁটি।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় পশুর নাম কি?

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় পশুর নাম হল মেছো বিড়াল।

আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিচিতি ও সমস্ত তথ্য
মেছো বিড়াল

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় পাখি

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় পাখির নাম হল ধলাগলা মাছরাঙা।

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্ঘের নাম কি ?

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম হল সান্দাকফু, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ৩,৬৩৬ মিটার এর মতো। এটি সিঙ্গালিলা পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ যেটি ভারত ও নেপালের সীমান্তে আছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর নাম কি ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী হল কলকাতা।

পশ্চিমবঙ্গের পূর্বের নাম কী ছিল?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আগের নাম ছিলো পশ্চিম বাঙলা।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শুষ্ক জেলাগুলির নাম কী?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শুষ্ক জেলাগুলি রাজ্যের পশ্চিমদিকে আছে, যাকে রাঢ় অঞ্চল বা জঙ্গলমহলও বলা হয়ে থাকে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমান হলো রাজ্যের শুষ্ক জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

পশ্চিমবঙ্গের কয়টি জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা গিয়েছে?

পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তিরেখা কল্পনা করা হয়েছে।  নদীয়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তিরেখা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় কোনো মহকুমা নেই?

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা জেলার কোনো মহকুমা নেই।

পশ্চিমবঙ্গে মোট থানার সংখ্যা কত?

পশ্চিমবঙ্গের মোট থানার সংখ্যা প্রায় ৩৮০ টি।

পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় জনঘনত্ব সবেচেয়ে বেশি?

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা জেলায় জনঘনত্ব সবেচেয়ে বেশি।

পশ্চিমবঙ্গের  মানুষ  সবচেয়ে বেশি কোন ভাষায় কথা বলে?

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ভাষা হলো বাংলা। এখানের প্রায় সব মানুষই বাংলা ভাষায় কথা বলেন।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল কি ?

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল হল শিউলি ফুল ।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় বৃক্ষ কি ?

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় বৃক্ষ হলো ছাতিম ।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিচারালয় কোনটি ?

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিচারালয়টি হল কলকাতা হাই কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব কত ?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রতি বর্গ কিমিতে ১১২৯ জন লোক বাস করে।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার হার

সাক্ষরতার হার পশ্চিমবঙ্গে ৭৬.২৬% .ভারতের জাতীয় গড় সাক্ষরতা হারের থেকে ৭৪.০৪% বেশি .ভারতের সব রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের স্থান সাক্ষরতার হারের দিক দিয়ে ২০ তম। মহিলা সাক্ষরতার হারের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ স্থানে আছে (৮৭.৭%)।

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রধান খাদ্য কি ?

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রধান খাদ্য হল ভাত ও মাছ ।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে ?

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ?

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল কে ?

পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হলেন জগদীপ ধনখর।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রাজ্যপাল কে ?

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রাজ্যপাল এর নাম হল চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসনসংখ্যা হল ২৯৫টি। এর মধ্যে একটি আসন থাকে একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সদস্যএর জন্য এবং বাকি ২৯৪টি আসনএর জন্য বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী সরাসরি নির্বাচিত হয়ে আসে ।

প্রতি ৫ বছর অন্তর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নিবার্চন হয়। বিজয়ী প্রার্থীকেই বিধায়ক হিসাবে নির্বাচন করা হয় ।

১৯৫২ সালে সর্বপ্রথম পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়। ২০২১ সালে বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনটি হয়।

পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থান

সমুদ্রসৈকত

দিঘা , পূর্ব মেদিনীপুর: বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় সমুদ্র সৈকত দীঘা। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও রয়েছে বহু পর্যটন কেন্দ্র ।

মন্দারমণি, পূর্ব মেদিনীপুর: বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি বড়ো সমুদ্র তীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্র । সমুদ্রের নির্জনতা এবং শান্ত পরিবেশই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শঙ্করপুর, পূর্ব মেদিনীপুর: এই সৈকত শহরটি দিঘা থেকে ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত একটি সৈকত শহর।

সাগরদ্বীপ : সাগর দ্বীপ কলকাতা থেকে দক্ষিণে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত .এর দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে আছে সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান। উত্তরদিকে আছে ঘোড়ামারা ও লোহাচূড়া। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে মকর সংক্রান্তিতে এখানে গঙ্গাসাগর মেলা মেলার আয়োজন হয়। তিনদিন ধরে হুগলি নদীর মোহনায় দেশ বিদেশ থেকে আসা বহু মানুষ স্নান করেন। কপিল মুনির মন্দিরে পূজার আয়োজন হয়।

বকখালি: বকখালি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহকুমার একটি গ্রাম .বঙ্গোপসাগরের উপকূলে সাদা বালি ও ঝাউগাছের সাগরতট, হেনরি আইল্যান্ড ৩.জম্বুদ্বীপ বকখালির সমুদ্রতটের নির্জনতা পর্যাতকদের আকর্ষণের কারণ ।

বকখালি ভ্রমণ গাইড

শৈল শহর

টাইগার হিল, দাৰ্জিলিং: সূর্যোদয়ের সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরগুলি থেকে যে আলোকছটা বার হয় তা বহু পর্যটকের কাছে আকর্ষণের কারণ দার্জিলিঙের টাইগার হিল থেকেই তা উপভোগ করা যায় ।

সামসিং, জলপাইগুড়ি: সামসিং হলো একটি ছোট পাহাড়ি গ্রাম। চা বাগানের দৃশ্য, পাহাড়, এখানকার জলবায়ু পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ।

দার্জিলিং: দাৰ্জিলিং তার নিজেস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছে। এটি কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য ও দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের জন্য জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। টাইগার হিল, বাতাসিয়া লুপ, দার্জিলিং চিড়িয়াখানা, হ্যাপি ভ্যালি টি স্টেট, প্যাগোডা ও মনাস্ট্রি এখানে বিশেষ পর্যটন কেন্দ্র, এছাড়া দার্জিলিং রোপওয়ে হলো এখানে বিশেষ আকর্ষণ ।

কালিম্পঙ: এটি পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত শৈলশহর। কালিম্পঙ এর কিছু বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হলো দুরপিন মনাস্টেরী, লেপ্চা মিউসিয়াম, মঙ্গল দাম প্রণামী মন্দির, ডেল পার্ক, মরগ্যান হাউস, গাডেন থারপা ছলিং মনাস্টেরী, দুরপিন মনাস্টেরী, থারপা ছলিং মনাস্টেরী, শহীদ পার্ক, নেওয়া ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, পেডং, তিস্তা বাজার ।

মিরিক: মিরিক দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হ্রদ। এছাড়াও আছে পাইন গাছের সারি। এখানে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানের সব থেকে উঁচু স্থান বোকার মোনাসটেরি। আছে সিংহ দেবী মন্দির। এখানেরনিম্নতম স্থান মিরিক লেক ।

কার্শিয়াং: কার্শিয়াং দার্জিলিং থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কার্শিয়াংকে দার্জিলিং জেলার একটি পাহাড়ি শহরও বলা যায়। পাহাড়ি ফুল, পাইনে ঘেরা সবুজের সমাহার, পাহাড়ি ঝর্ণাধারা পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে। কার্শিয়াংকে ‘ল্যান্ড অফ হোয়াইট অর্কিড’ বলা হয় ।পাগলা ঝরা ঝর্না, চিমনি হেরিটেজ গার্ডেন, বাগোরা এখানের দর্শনীয় স্থান ।

বাগডোগরা, দার্জিলিং: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শহরটি চা বাগানের জন্য বিখ্যাত ।

ঐতিহ্যবাহী শহর

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, কলকাতা: এটি একটি বিশাল মার্বেল ভবন যা ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে নির্মিত। সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রকের অধীনস্ত এখানে একটি মিউজিয়ামও আছে ।

বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া: মন্দির শহরটি সংস্কৃতি,স্থাপত্য এবং পোড়ামাটির (টেরাকোটা শিল্প ) তৈরী জিনিসের ঐতিহ্য বহন করছে। রাশমঞ্চ , জোড়বাংলা মন্দির, মৃন্ময়ী মন্দির, গড় দরজা, শ্যাম রায় মন্দির, প্রত্নতাত্ত্বিক যাদুঘর প্রভৃতি যা পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণের জায়গা ।

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, সাইন্স সিটি, মার্বেল প্যালেস, হাওড়া ব্রিজ, ফোর্ট উইলিয়াম, চায়নাটাউন, বিড়লা প্লানেটরিয়াম, পরেশনাথ মন্দির, বোটানিক্যাল গার্ডেন,মেটকাফ টাউন হল, আলিপুর চিড়িয়াখানা, ইডেন গার্ডেন পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গা ।

কামারপুকুর: কামারপুকুর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার অবস্থিত। রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্ম হয় এই কামারপুকুরে। গড় মান্দারনকে কেন্দ্র করেই এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

বেলুরমঠ: বেলুড় মঠ হল রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারা নির্মিত। বেলুড় মঠ হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। এই মন্দিরটি হিন্দু, ইসলামী, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব ধর্মের স্থাপত্যের নিদর্শন। বেলুড়মঠের বিশেষ আকর্ষণ হলো দূর্গা পূজার সময় আয়োজিত কুমারী পুজো ।

নবদ্বীপ ও মায়াপুর: নদিয়া জেলায় ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নবদ্বীপ ও মায়াপুর একটি গ্রাম .শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান .ইস্কন মন্দির ,গৌড়ীয় মঠ , ভক্তি সারঙ্গ গোস্বামী মহারাজ মঠ, জন্মভিটে তথা শ্রীমন্দির, পুণ্যিপুকুর শ্যামকুণ্ড, রাধাকুণ্ড , চাঁদ গাজী সমাধি , ৫০০ বছরের পুরনো গোলকচাঁপা গাছ আকর্ষণীয় পর্যটন স্থল।

তারাপীঠ: বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের এই মন্দির নগরী অবস্থিত . দেবী তারার মন্দির ও শ্মশানক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত তারাপীঠ বিখ্যাত ।

শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতনে পাওয়া যায় শান্তির অনুভূতি। শান্তিনিকেতন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের কাছে কোপাই ও অজয় নদীর তীরে অবস্থিত। এটি কবি গুরুর তৈরী একটি আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র। এখানের লাল মাটি ও পৌষ মেলা বিশেষ ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে । এখানেই আছে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ।

বোলপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণ গাইড

ঐতিহাসিক স্থান

মুর্শিদাবাদ: সমগ্র শহর জুড়েই রয়েছে প্রাচীন বাংলার নবাবদের কর্মকান্ড ও ইতিহাস। হাজার দুয়ারী রাজপ্রাসাদ, খোশবাগ ,বড়া ইমামবরা, কাটরা মসজিদ, মোতিঝিল, কাশিমবাজার রাজবাড়ী সর্বাধিক আকর্ষণীয় ।

চন্দ্রকেতুগড়: চন্দ্রকেতুগড় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত। চন্দ্রকেতুগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রাচীনত্ব ও গুরুত্বের জন্য এক বিশেষ পর্যাটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে “আশুতোষ সংগ্রহশালা” তৈরী হয় , পোড়ামাটি ও অন্যান্য শিল্প-নিদর্শন সর্বাধিক আকর্ষণীয় ।

পান্ডুয়া এবং গৌর: গৌড় ও পান্ডুয়া মালদহ জেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনবাহি গ্রাম। পান্ডুয়ার শহরতলি শেখ জালালুদ্দীন তাবরিজি দরবেশ ,নূর কুতুব আলম দরবেশ , প্রাচীন মসজিদ, মিনার, প্রাসাদ ,গৌড়ের পিয়াস বারি ,তাঁতিপাড়া মসজিদ, ৩৩ একর ব্যাপ্ত দিঘি, বৈষ্ণবতীর্থ রামকেলি, মদনমোহন জিউ মন্দির, ৮টি কুণ্ড,ছোটসোনা মসজিদ, নেক বিবির সমাধি, লোটন মসজিদ, চিকা মসজিদ, দাতন মসজিদ, লুকোচুরি গেট, বাইশগজি প্রাচীর, কোতোয়ালি দরওয়াজা, পর্যটকদের আকৃষ্ট করে ।

অভয়ারণ্য

সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্ক, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: সুন্দরবন বঙ্গোপসাগরের উপকূলের একটি প্রশস্ত বনভূমি এবং অভয়ারণ্য। এই বনভূমি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এর জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও নানান ধরনের পাখি, কুমির, হরিণ, সাপ, বুনোশুয়োর ,মেছোবিড়াল প্রভৃতি অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল ।

ডুয়ার্স: শিলিগুড়ি থেকে সামান্য দূরে ভুটান সংলগ্ন এলাকায় হলো ডুয়ার্স। ছোটো বড়ো পাহাড়, শাল. তাছাড়াও আছে সেগুনের জঙ্গল , প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তাছাড়াও আছে গরুমারা জাতীয় উদ্যান, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, সিঙ্গলিলা জাতীয় উদ্যান, বক্সা ফোর্ট , হাসিমারা , গজলডোবা প্রভৃতি জায়গা ।

জলদাপাড়া ন্যাশনাল পার্ক, আলিপুরদুয়ার: তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান ।এই বনভূমি এক শৃঙ্ঘ গন্ডারের জন্য বিখ্যাত ।

পাহাড়

গড়পঞ্চকোট ও পুরুলিয়া: উত্তরদিকে আছে পাঞ্চেত পাহাড়। শাল , মহুয়া জঙ্গলে সবুজের সমাহারে ঘেরা জায়গাটি কিছুদিনের জন্য ছুটি কাটানোর একটু আদর্শ জায়গা। এটি ছিল প্রাচীনকালে পঞ্চকোট রাজাদের রাজধানী ।

শুশুনিয়া পাহাড়: শুশুনিয়া পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার অবস্থিত। সবুজে ঢাকা এই পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে বিশেষ পশু পাখির দেখা মেলে ।

আপনার কাছ থেকে আরো ৫ সেকেন্ড চাইছি এই আর্টিকেল টি শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।