শিয়ালদহ এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ

আমার প্রাণের শহর কলকাতা। আর শিয়ালদহ রেল স্টেশন কে ধরা যেতে পারে এই শহরের হার্ট বীট। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এই স্টেশন এ আসেন। শিয়ালদা স্টেশন দুটি ভাগে বিভক্ত নর্থ এবং সাউথ। এ বছর পয়লা বৈশাখের দিন খুলে গেলো কোলকাতা শিয়ালদহ এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ এয়ারপোর্ট এর মতো । আর তাই স্বাভাবিক ভাবে একবার ঢুঁ মারতেই হলো। শিয়ালদাহ নর্থ এর ৬/৭ প্লাটফ্রম এর ঠিক বিপরীতে যে টিকেট কাউন্টার আছে সেখানে আসতে হবে ওখানেই পেয়ে যাবেন এই ভিপি লাউঞ্জ টি। আসুন দেখা যাক কেমন হয়েছে।

Read:- Irctc Sealdah Executive Lounge 

শিয়ালদহ লাউঞ্জ
শিয়ালদহ লাউঞ্জ

Table of Contents

শিয়ালদহ এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ ও আমার অভিজ্ঞতা (Sealdah Executive Lounge Kolkata)

শিয়ালদহ এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ টি ১ ফ্লোর এ অবস্থিত , আপনি সহজেই লিফ্ট এ করে উপরে উঠে যেতে পারবেন। লিফ্ট থেকে বেরোলেই রিসেপশন। ওখানেই আপনাকে টিকেট কাটতে হবে। ১০০ টাকা এন্ট্রি ফী। ২ ঘন্টার জন্য বসতে পারবেন। তার পর প্রতি ঘন্টায় ৫০ টাকা করে লাগবে। আছে। নাম এন্ট্রি করার পর আপনাকে ফেরৎ যোগ্য একটি কার্ড দেয়া হবে যেটি তে রিচার্জ করে আপনি নিম্নোক্ত সুবিধা গুলি পাবেন।

এখানে লাগেজ রাখার এবং ওয়াশরুম এর ব্যাবস্থাও আছে। মনোরঞ্জনের জন্য আছে টিভি।
এছাড়াও রয়েছে কম্পিউটার এক্সেস , লকার ফেসিলিটি , এবং স্নান করার ব্যবস্থা । সোফায় বসার সঙ্গে সঙ্গেই আপনাকে ধরিয়ে দেওয়া হবে একটি বোতল জল এবং এক কাপ কফি সম্পূর্ণ ফ্রি তে।
শিয়ালদাহ এর মতো জনবহুল এলাকায় নিরিবিলিতে রিলাক্স করার জন্য দারুন একটি জায়গা। কারুর জন্য অপেক্ষা করে হোক বা নিজের ট্রেন ধরাইহোক, লাউঞ্জে টি সত্যি ই প্রয়োজনীয়।

আমার এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ এর ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা

ব্যক্তি গত ভাবে আমি এই টুকুই বলতে পারি যে জায়গাটি আমাকে বিশেষ আকর্ষণ করলো না। এই লাউঞ্জে টি আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় , কারণ বসার জায়গার দরকার হলে ফার্স্ট ক্লাস এবং সেকেন্ড ক্লাস ওয়েটিং রুম আছে শিয়ালদহ স্টেশন এ, তও সম্পুর্ন্ন ফ্রি তে । আর সমস্ত কিছুর মূল্যই আমার কাছ এ বেশি মনে হয়েছে। এখানে ২ পিস এগ কারির দাম ৮০ টাকা। veg মিল ১৫০ টাকা।আর ৫০০ টাকার বেশি বিল হলে এন্ট্রি ফী ফ্রি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও নন ভেজ থালি দুজনের জন্য ৬০০ টাকা এবং বুফে মাথা পিছু ৪০০/ ৬০০ টাকা।

পড়ুন :- কলকাতা জাতীয় গ্রন্থাগার মেম্বারশিপ পশ্চিমবঙ্গ [ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ]

সমস্ত রকম খাবারের ই প্রচুর দাম। অথচ এই লাউঞ্জে থেকে বেরিয়েই , জন আহার আছে যেখানে এ এই সব খাবারের মূল্য অর্ধেক হয়ে যাবে। তাহলে আমরা কি এটা ধরে নেবো যে রেল ও আস্তে আস্তে প্রাইভেট হয়ে যাচ্ছে। এখন তো বাইরে থেকে ৫ টাকার লোকাল টিকেট কাটতে হলে ২ টাকা বেশি দিতে হয়। উপায়ও নেই কারণ রেল এর টিকেট কাউন্টার গুলি তে এতো ভিড় থাকে যে ওই খান থেকে টিকিট কাটতে গেলে আপনার ট্রেন টি সিওর মিস যাবে।

পড়ুন:- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

রেস্তোরাঁ টি পার্ক স্ট্রিট এ হোলে এতোটা চোখে পড়তো না। কারণ ওখানে ওই স্ট্যান্ডার্ড এর মানুষের ই যাতায়াত। কিন্তু শিয়ালদাহ স্টেশন যেখানে ৯৯ % মানুষ ই সাধারণ বা গরিব চলাফেরা করে , সেখানে এই লাউঞ্চে টি খোলা হলো, সমাজের বিত্তশালী মানুষদের টার্গেট করে। এর বদলে যাত্রী সুবিধা, সাছন্দের কথা আর একটু ভাবা যেতোনা ?
দাম যদি কমে তাহলে আমার বিশ্বাস এটি সত্যি সত্যি ই সাধারণ মানুষের অনেক কাজে আসবে।

পড়ুন :- মেটকাফ টাউন হল মিউজিয়াম কলকাতা

সোনারপুর স্টেশন এ আমার অভিজ্ঞতা

আর একটা জিনিস দেখতে পেলাম সোনারপুর স্টেশন এ। জলের যে রিজার্ভার রয়েছে লাস্ট ২০ বছর ধরে তা থেকে কিছু দিন আগে পর্যন্ত ঠান্ডা জল বেরোত। কিন্তু এখন একটি ওয়াটার বুথ হয়েছে ঠিক রিজার্ভার টির পাশে , যেখানে ৩০০ এমএল জল ১ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আর তারপর থেকেই, কোনো একটি অজানা কারণে রিজার্ভার থেকে এই গরমে আর ঠান্ডা জল বেরোচ্ছে না। তাও জল কিনতে গায়ে লাগতো না , যদি জলের বুথ টি ২, ৩ বা ৪ নো প্লাটফর্ম এ ইনস্টল হতো যেখানে সত্যি জলের প্রয়োজন আছে, আর এই রকম জলের বুথ প্রত্যেকটি স্টেশন এই দেখা যাচ্ছে।

তার মানে ধরে নেওয়া যেতে পারে আরো কিছু দিন পর থেকে স্টেশন গুলি তে জল কিনেই খেতে হবে । আর আশা রাখবো রেল কর্তৃপক্ষ এই আর্টিকেল টিকে একটি কন্সট্রাক্টিভ ক্রিটিসিজম হিসাবেই দেখবে। ধন্যবাদ ।

পড়ুন :- হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা

সোনারপুর স্টেশন
সোনারপুর স্টেশন
আপনার কাছ থেকে আরো ৫ সেকেন্ড চাইছি এই আর্টিকেল টি শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।