হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ

আপনি কি জানেন হাওড়া ব্রিজ তৈরি হওয়ার আগে , কলকাতা এবং হাওড়া আর মধ্যে পরিবহন এর একমাত্র মাধ্যম ছিল এই হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা। বর্তমানে শিবপুর থেকে বাগবাজার পর্যন্ত , ভায়া হাওড়া ফেরি সার্ভিস চালু আছে।

Read in English:- Kolkata Howrah Ferry Service | Bagbazar Ghat To Shibpur Boat Ride

কলকাতা ফেরি পরিষেবা
কলকাতা ফেরি পরিষেবা

Table of Contents

আর একটি ভালো খবর ও আছে বন্ধুরা সম্প্রতি গভর্নমেন্ট জেটি গুলি তে স্মার্ট কার্ড ও টোকেন চালু হয়েছে , কলকাতা মেট্রোর মতো। এই কার্ড টি আপনি যেকোনো সরকারি বাস , ট্রাম এবং সরকারি জেটি গুলি তে ব্যবহার করতে পারবেন। টোটাল ১৫০ টাকা লাগছে তার মধ্যে কার্ড ৪০ টাকা আর ১১০ টাকা র রিচার্জ এমাউন্ট। এটি ৫ বছরে জন্য বৈধ।

পড়ুন:- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

ফেরি স্মার্ট কার্ড ও টোকেন
ফেরি স্মার্ট কার্ড ও টোকেন

হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা – Howrah Kolkata Ferry Service

হাওড়া স্টেশন থেকে বেরোলেই সেখানে আপনি তিনটি জেটি পাবেন। ১ এবং ২ নম্বর জেটি হলো প্রাইভেট আর তিন নম্বর টি হলো গভর্নমেন্ট জেটি । গভর্নমেন্ট স্টিমার গুলি শুধু মাত্র শিপিং এবং ফেয়ারলী প্লেস এর মধ্যে চলা চল করে। সকাল ৮ টা থেকে রোজই ফেরি সার্ভিস চালু হয়ে যায় সমস্ত ঘাট গুলি তে।

হাওড়া ফেরিঘাট থেকে বাগবাজার

বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সরকার হুগলি নদীর তীরে শ্রীরামপুর থেকে ফেয়ারলি প্লেস কলকাতা , উত্তরপাড়া থেকে ফেয়ারলি , চন্দননগর থেকে ফেয়ারলি ইত্যাদির যেটি ঘাট থেকে জরুরি ফেরি পরিষেবা শুরু করেছে ।

শ্রীরামপুর ধোবি ঘাট থেকে ফেয়ারলি প্লেস ফেরি ভাড়া ৪০ টাকা (একপাশে) বোট টি প্রায় ২ ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে ।

হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ
শ্রীরামপুর চন্দননগর উত্তরপাড়া থেকে ফেয়ারলি প্লেস ঘাট কলকাতা ফেরি পরিষেবা

এছাড়াও, উত্তরপাড়া থেকে করুণাময়ী, উত্তরপাড়া থেকে এসপ্ল্যানেড, চন্দননগর থেকে সেক্টর ফাইভ হয়ে করুণাময়ী, শ্রীরামপুর থেকে ডানলপ হয়ে ধর্মতলা , চুঁচুড়া থেকে ধর্মতলা হয়ে ডানলপ হয়ে নতুন বাস পরিষেবা চালু হয়েছে।

হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ
উত্তরপাড়া করুণাময়ী শ্রীরামপুর চুঁচুড়া এসপ্ল্যানেড বাস পরিষেবা

হাওড়া থেকে শিবপুর ঘাট ডিটেলস

হাওড়া স্টেশন থেকে সবথেকে কাছের ঘাট টি হলো আর্মেনিয়াম ফেরি ঘাট।

আর্মেনিয়ান ঘাট ১৭৩৪ সালে নির্মিত হয়েছিল। আর্মেনিয়ান রা হলো প্রথম বিদেশি যারা কলকাতায় বসতি স্থাপন করেছিল। তারাই এই ঘাট টি তৈরি করেন। আর্মেনিন ঘাট থেকে খুব সহজেই আপনি বড় বাজার পৌঁছাতে পারবেন। মল্লিক বাজার ফুল মার্কেট আর ব্রেবোন রোড এর কাছে এই ঘাট টি অবস্থিত। ৬ টাকা ভাড়া এবং ১৫/২০ মিনিট অন্তর অন্তর স্টিমার চলে।

এবার চলে আসুন ফেয়ারলি প্লেস ঘাট এ। এটি ঠিক বিবাদী বাগ রেল স্টেশন এবং মিলেনিয়াম পার্ক এর থার্ড গেট এর পাশে অবস্থিত। এখানে দুটি ফেরি ঘাট আছে একটি সরকারি এবং অপরটি বেসরকারি। হাওড়া থেকে এটির ভাড়া ৬ টাকা এবং ১৫/২০ মিনিট ছাড়া ছাড়া লঞ্চ পাবেন। এখন থেকে খুব সহজেই কলকাতার ডালহৌসি, টি বোর্ড ইত্যাদি পৌঁছানো যায়।

১৮৫৫ সালের মে মাসে ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোং র অফিস এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় অফিস যাত্রী ও স্থানীয় মানুষের প্রচুর ভিড় হতো এই এলাকা টি তে। পরিবহন সমস্যা দূর করার জন্য এখানে একটি ঘাট তৈরি করা হয়েছিল। এখন এই ঘাটটি ফেয়ারলি প্লেস ঘাট নামে পরিচিত।

এর পরের জেটি টি হলো শিপিং জেটি , এটি মিলেনিয়াম পার্ক ও মেটকাফ টাউন হল এর এর ১ এবং ২ নম্বর গেট এর মাঝে মাঝি অবস্থিত। মেটকাফ হল ই হলো ভারতের সর্বপ্রথম ন্যাশনাল লাইব্রেরি। এটির ওর ভাড়া ৬ টাকা এবং ১৫ / ২০ মিনিট অন্তর অন্তর হাওড়ার জন্য স্টিমার চলে। এখন থেকে খুব সহজেই কলকাতার জিপিও , ডালহৌসি বা টেলিফোনে ভবন পৌঁছাতে পারবেন। রিসেন্টলি গঙ্গাসাগর যাত্রা শুরু হয়েছে প্রতি উইকেন্ড এ মিলেনিয়াম পার্ক জেটি থেকে। একপীঠের ভাড়া ১৪০০ টাকা।

হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ
হাওড়া স্টেশন ফেরিঘাট থেকে শিপিং কর্পোরেশন ফেরী টাইম টেবিল

শিপিং জেটি থেকে দুটি স্পেশাল টিপ্ আপনার জন্য

প্রথম টি হলো শনিবার ও রবিবার ময়ূরপঙ্কী নাও চলে বিকেল ৪ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত। টিকিট মূল্য প্রতি ব্যক্তির ১০০ টাকা। আপনি এক ঘন্টা জন্য এই যাত্রা উপভোগ করতে পারবেন। নৌকাটি মিলেনিয়াম পার্ক এর ১ এবং ২ নং গেট থেকে যাত্রা শুরু করে।

দ্বিতীয টি হলো যদি আপনি কোলকাতা ফেরী ছাড়াও ক্রুজ এর অভিজ্ঞতা করতে চান তাহলে ভিভাদা cruise আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে। ভিভাদা ক্রুজ দৈনিক ৪ ক্রুজ রাইড অফার করে – ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ইভনিং এবং ডিনার। প্রতিটি ক্রুজ এর যাত্রা সময় হলো তিন ঘন্টা। মিলেনিয়াম পার্ক এর ঘাট থেকে প্রতিদিন যাত্রা শুরু হয়। ব্রেকফাস্ট ক্রুজ এবং ইভনিং ক্রুজের যাত্রা পথ, মিলেনিয়াম পার্ক থেকে বেলুর মঠ পর্যন্ত। বেলুর মঠ এর সন্ধ্যা আরতি পরিদর্শন করার পর আবার মিলেনিয়াম পার্ক ফিরে আসে।

এর পরের ঘাট টি হলো বাবুঘাট ও চাঁদপাল ঘাট , বাবুঘাট টি এখন রিপেয়ারিং এর জন্য বন্ধ আছে। এটি ইডেন গার্ডেন চক্র রেল এর ঠিক পাশেই অবস্থিত। তাই চাঁদপাল ঘাট থেকেই হাওড়া আর ফেরি সার্ভিস চালু রয়েছে। ৬ টাকা ভাড়া এছাড়াও চাঁদপাল ঘাট থেকে শিবপুর এবং রামকৃষ্ণপুর ফেরি সার্ভিস চালু আছে ৬ টাকা ভাড়া তেই।

চাঁদপাল ঘাট এও দুটি জেটি আছে. প্রথম টি হাওড়া এবং শিবপুর এর জন্য অপরটি রামকৃষ্ণপুরের জন্য । চাঁদপাল ঘাট থেকে আপনি সহজেই এসপ্ল্যানেড বা ধর্মতলা , ইডেন গার্ডেন পৌঁছাতে পারেন। বহু বছর আগে চাঁদপুর ঘাট কলকাতায় সবচেয়ে ব্যস্ততম ঘাট ছিল। সাধারণত, কোনো জায়গার নাম দেবতা বা সেলিব্রিটির নাম এ হয় । কিন্তু চাঁদপাল ঘাট এর ব্যতিক্রম। চাঁদপাল কোনো ধনী বা সেলিব্রিটি ছিলেন না। তিনি একটি ছোট দোকানের মালিক ছিলেন, যিনি ঘাটের পাশে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পরিবারের সামগ্রী বিক্রি করতেন । সময়ের সাথে সাথে, দোকানটি বা চাঁদপাল এর জনপ্রিয়তা র জন্য এই ঘাট টি নাম চাঁদপাল ঘাট হয়।

চাঁদপাল ঘাট থেকে রামকৃষ্ণপুর , শিবপুর , এবং হাওড়া জন্য সকাল ৭:৪৫ থেকে বোট ছাড়ে আধ ঘন্টা অন্তর অন্তর। যেমন – ৭:৪৫ , ৮:১৫, ৮:৪৫ এবং ৯:১৫। আবার ৯:১৫ থেকে ১১:৪৫ অফিস টাইম লঞ্চ ছাড়ে ১৫ মিনিট বিরতি তে। আর ১১:৪৫ থেকে ৪:১৫ অবধি আধ ঘন্টা অন্তর অন্তর বোট চলে। এবং বিকেল বেলা ৪:১৫ থেকে ৭:৪৫ অবধি অফিস টাইম এ ১৫মিনিট ছাড়া ছাড়া স্টিমার চলে। আর লাস্ট বোট ছাড়ে রাত ৮.১৫ তে। এছাড়াও কিছু

স্পেশাল টিপস

আপনি রামকৃষ্ণপুর বা শিবপুর ঘাট থেকে খুব সহজেই বোটানিক্যাল গার্ডেন ভিসিট করতে পারেন।

যদি আপনি রামকৃষ্ণপুরপুর ঘাট থেকে সন্ধ্যায় ফিরে আসেন, তবে রামকৃষ্ণপুর ঘাটের সন্ধ্যা আরতি টি মিস করবেন না। আর শিবপুর ঘাট থেকে দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজের দুর্দান্ত ছবি তুলতে পারবেন ।

পড়ুন :- পুরুলিয়া অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ গাইড

হাওড়া ফেরিঘাট থেকে শিবপুর

হাওড়া থেকে বাগ বাজার ফেরি

হাওড়া থেকে বাগ বাজার আধ ঘন্টা অন্তর ফেরি চলে। ৭ টাকা ভাড়া। প্রাইভেট জেটি থেকেই বাগ বাজারের স্টিমার পাওয়া যায়। ওই একটি স্টিমার ই যাবে সব কটি ঘাট ছুঁতে ছুঁতে।

প্রথম ঘাটটি টি হলো গোলাবাড়ি ফেরি ঘাট. এই ঘাট টি যাওয়ার সময় আপনার একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হবে, যখন আপনার বোটটি হাওড়া ব্রিজ এর নিচ থেকে যাবে।

দ্বিতীয় ঘাট টি হলো আহিরীটোলা ঘাট. আহিরীটোলা ঘাট টি তে আপনি নানা রকম পূজা – অর্চনা দেখলেও দেখতে পেতে পারেন। এছাড়াও, নানা ধরণের রিচুয়ালস হয়। আহিরীটোলা থেকে শোভাবাজার , নিমতলা, এবং জোড়াবাগান খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। এখন থেকে বাঁধা ঘাট এর ডেডিকেটেড ফেরি সার্ভিস আছে। ১৫ মিনিট অন্তর বোট চলে। ভাড়া ৬ টাকা।

তৃতীয় নম্বর ঘাট টি হলো শোভাবাজার লঞ্চ ঘাট। হাওড়া থেকে শোভাবাজার এর ভাড়া ৬ টাকা। বাগ বাজার হলেই ৭ টাকা ভাড়া হয়। শোভাবাজার থেকে কুমোরটুলি এবং শোভাবাজার মোড় পৌঁছানো যায়।

চতুর্থ বা অন্তিম ঘাট টি হলো বাগবাজার লঞ্চ ঘাট। এটি বাগ বাজার চক্র রেল এর ঠিক পাশেই। বাগবাজার ঘটে সমস্ত ধরণের রিচুয়ালস হয়, আর যদি সন্ধ্যা বেলা যান তাহলে সন্ধ্যারতি দেখতে পাবেন। বাগ বাজার বা শোভাবাজার ঘাট থেকে খুব সহজেই কুমোরটুলি এবং শোভাবাজার পৌঁছনো যায়। এছাড়াও যখন বেলুড় এ কোনো অনুষ্ঠান হয় তখন বাগ বাজার থেকে বেলুড় এবং হাওড়া থেকে বেলুড় লঞ্চ চলে। এই মুহূর্তে বাগবাজার থেকে কাশিপুর যাওয়ায় একটি মাত্র লঞ্চ চলে ভোরবেলায়।

পড়ুন :- পরেশনাথ জৈন মন্দির কোলকাতা

হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ
হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা – বেলুড় মঠ

১৯ টাকায় ফেরি ভ্রমণ হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা

যাত্রা শুরু করুন বাগ বাজার থেকে ৭ টাকা দিয়ে হাওড়া পৌঁছন তার পর হাওড়া থেকে চাঁদপাল ঘাট আসুন ৬ টাকায় এর পর আর একটি ৬ টাকার টিকেট কাটুন শিবপুর এর জন্য।

সময় লাগবে বাগ বাজার থেকে হাওড়া আধ ঘন্টা। হাওড়া থেকে চাঁদপাল ঘাট ২০ মিনিট এবং চাঁদপাল থেকে শিবপুর আর ২০ মিনিট। বোনাস টিপ্ হলো শিবপুর ফেরি ঘাট থেকে আপনি বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরে আসতে , স্থল পথে ১৫ মিনিট লাগবে।

হাওড়া কলকাতা ফেরি পরিষেবা | ১৯ টাকায় গঙ্গাবক্ষে প্রমোদ ভ্রমণ
আপনার কাছ থেকে আরো ৫ সেকেন্ড চাইছি এই আর্টিকেল টি শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।