জয়দেব কেন্দুলী মেলা বীরভূম | আশ্রমের বাউল গান

গঙ্গাসাগরে খুব ভিড়? তিল ধারণএর ক্ষমতা নেই , তাই তো? তবে কি ভাবছেন কোথায় যাবেন ? খোঁজ দিচ্ছি সেই ঠিকানার যেখানে রথ দেখা আর কলা বেচা দুই হবে। মানে বলতে চাইছি শুধু স্নান নয় তার সাথে উপরি পাওনা গান। আমাদের বাংলার প্রাণের গান বাউল গান আর মধু মাখা হরি নাম কীর্তন। জয়দেব কেন্দুলিতে প্রধান আকর্ষণ হলো বিখ্যাত নবরত্ন রাধাবিনোদ মন্দির । এই মন্দির ১৭ শো শতকের মধ্যে নির্মিত হয়। এখন মন্দির বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া অধীনে। এই মেলা মকর সংক্রান্তির দিন শুরু হয় এবং তিনদিন চলে।

Read in English:- Joydev Kenduli Mela Birbhum

জয়দেব মেলা
জয়দেব মেলা

জায়গাটি হলো বোলপুর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং দূর্গা পুর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জয়দেব কেন্দুলী মেলা তবে এখানেও ভিড় কম কিছু নয় , প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেন এই জায়গায়। মূলত অজয় নদীকে কেন্দ্র করেই এই মেলা হতো তবে বর্তমানে এটি বিখ্যাত রাধাবিনোদ মন্দির ঘিরে মেলা বসছে।

Table of Contents

জয়দেব কেন্দুলী মেলা বীরভূম- বাউল গান – Joydev Kenduli Mela

আপনি কেন্দুলি তে অনেক আশ্রম ও আখরা খুঁজে পাবেন। মেলার সময়, তারা আশ্রমের প্রাঙ্গনে বাউল গান, কীর্তন এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম করে। শুধু এই নয়, এইখানে যেসমস্ত আশ্রম আছে এই মেলার সময় তারা মেলায় আগত দর্শনার্থী দেড় জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করে। তীর্থযাত্রীদের জন্য গঙ্গাসগরের মতো অস্থায়ী বাসস্থানও রয়েছে। আর একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন এইখানে কোনো হোটেল নেই থাকতে হলে আপনাকে এই অস্থায়ী শিবির, আশ্রম বা কোনো আখড়াতে থাকতে হবে।

কেন্দুলীর মেলা কত বছরের প্রাচীন তা এই মুহূর্তে সুনিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে এই মেলা গঙ্গাসাগর ও কুম্ভ মেলার মতোই পবিত্র এবং এখানে অজয় নদীকে কেন্দ্র করেই মকরসংক্রান্তির মহাস্নান (January 15) অনুষ্ঠিত হয়। আগে নদীর চর এ এ ই মেলা বসত। তবে দিন দিন পরিস্থিতি পাল্টেছে, মানুষের ভিড় বেড়েছে, তাই এখন পুরো মেলাটাই হয় মন্দির সংলগ্ন এলাকাতে, প্রায় চারপাশ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে ।

পড়ুন :- ৩ দিনের বোলপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণ

জয়দেব কেন্দুলী মেলা

পড়ুন :- পুরুলিয়া অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ গাইড

কবি জয়দেব

কবি জয়দেবএর জন্মস্থান হলো এই কেন্দুলী গ্রাম। তিনি দ্বাদশ শতকে জন্ম গ্রহণ করেন এবং তিনি একদা রাজা লক্ষণ সেনের সভা কবি ছিলেন। কবি জয়দেব কুশেশ্বর শিব মন্দিরের পূজা ও ধ্যান করতেন , আপনি এখনও মন্দিরের ভিতরে সেই পাথর এর অংশ দেখতে পাবেন যেখানে তিনি ধ্যান করতেন। তিনি হলেন বিখ্যাত শ্রী শ্রী গীতগোবিন্দম্ এর রচয়িতা। এই শতাব্দীর শেষদিকে তিনি প্রথমে গৌড় এবং তারপর পুরী এবং শেষ জীবন বৃন্দাবনে অতিবাহিত করেন। এবং বৃন্দাবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং আখড়ায় তাঁর সমাধি দেওয়া হয়।

ধারণা করা যায় এটি ইংরাজী ১২০৩ সালের ঘটনা। আর একটু খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে এটি জানুয়ারী মাসের মাঝে মাঝি এবং পৌষ মাসের শেষ , যা ঘটনাক্রমে মকর সংক্রান্তির দিন পড়ে। সেই থেকে অজয় নদীর তীরে মহাস্নান মধ্যে দিয়ে জয়দেব তর্পন শুরু হয় এবং জয়দেব মেলা গড়ে ওঠে। সুতরাং এই মেলা চলে আসছে শ্রীচৈতন্য এর পূর্ববর্তী সময় থেকে বলে মনে করা হয়।

পড়ুন:- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

কিভাবে যাবেন জয়দেব কেন্দুলী মেলা

আমি হাওড়া স্টেশন থেকে আমার যাত্রা শুরু করি । হাওড়া থেকে 6.45 মিনিট এ হুল এক্সপ্রেসে উঠি । সকাল 6 টায় ইস্পাত নামের একটি ট্রেন আছে, ওই ট্রেন টাও খুব ভালো। আপনি কেঁদুলি দুই ভাবে যেতে পারেন প্রথম টি হলো বোলপুর থেকে আর দ্বিতীয়ত দুর্গাপুর থেকে। জয়দেব মেলা বোলপুর থেকে ৩০ কিলোমিটার আর দুর্গাপুর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে ।

আমরা সকাল ৯.৩০ মিনিট এ দুর্গাপুর পৌছালাম। দুর্গাপুর স্টেশনের বাইরেই বাস পাবেন কেন্দুলি যাওয়ার জন্য। অটো রিসার্ভ করেও যেতে পারেন। আবার বোলপুর গামী বাস এ করে আপনি মুচিপাড়া নামবেন এবং ওখান থেকে ট্রেকার পাবেন , অটো পাবেন। বাস ভাড়া ৩০ টাকা প্রতি জন ,আর মুচিপাড়া থেকে রিসার্ভ অটো ৩৩০ টাকা নেবে। মেলার সময় আপনি দুর্গাপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ডাইরেক্ট জয়দেব যাবার বাস পাবেন।

জয়দেব কেন্দুলী মেলা আশ্রম
জয়দেব কেন্দুলী মেলা আশ্রম

জয়দেব মেলার কাছাকাছি নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

  1. দেউল পার্ক ও বনাঞ্চল
  2. দেউল মন্দির
  3. শ্যামা রূপা মন্দির
  4. গড় জঙ্গল

পড়ুন :- কোলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর মেলা ভ্রমণ গাইড

হেতমপুর রাজবাড়ী র কাছাকাছি নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

১. হেতমপুর রাজবাড়ী
২. গৌরাঙ্গ মঠ
৩. মুন্সির দূর্গা মন্দির
৪. কৃষ্ণ চন্দ্র কলেজ
৫. শিব মন্দির (হাটতলা)
৬. শিব মন্দির (বাবু পাড়া)
৭. দূর্গা মন্দির (বাবু পাড়া)
৮. দূর্গা মন্দির (ঠাকুর পাড়া)
৯. হেতমপুর রাজ্ উচ্চ বিদ্যালয় (পুরোনো জমিদারবাড়ির দুর্গাদালান)

শুভ মকর সংক্রান্তি

আপনার কাছ থেকে আরো ৫ সেকেন্ড চাইছি এই আর্টিকেল টি শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।