পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল কী?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জাতীয় ফুলের (flower of West Bengal) নাম হল শিউলি বা শেফালি ফুল।

পড়ুন:- বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল কী
পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল – শিউলি

Table of Contents

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল – শিউলি ও তার পরিচিতি

শিউলি ফুল হলো নিকটানথিস (nyctanthes) প্রজাতির বৃক্ষ। শিউলি গাছ এশিয়ার দক্ষিণ পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত জুড়ে বিস্তার লাভ করেছে। থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশেরও জাতীয় ফুল হলো শিউলি ফুল।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শিউলি ফুল শরৎ ঋতুতে ফোটে। সুন্দর গন্ধযুক্ত এই ফুলে রয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা রঙের বৃতি ও মাঝে লালচে-কমলা রঙের বৃন্ত।ফুলগুলি রাতের দিকে ফোটে এবং ভোরবেলা সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথেই ঝরতে থাকে। রাতে ফোটার কারণে শিউলি ফুলের রং সাদা হয়। শিউলি ফুলের গাছকে “বিষণ্ন তরু”-ও বলা হয়।

শিউলি ফুলের গাছএ বারোমাসই কম বেশি ফুল ফোটে।শিউলি ছোট আকারের বৃক্ষ জাতীয় বহু বর্ষজীবী গাছ। শিউলি গাছ লম্বায় প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।শিউলি গাছের কাণ্ডটি মাঝারি শক্ত মানের হয়। গাছের পাতাগুলো ৬ থেকে ৭ সেন্টিমিটার এর মতো লম্বা।

পাতার রঙ সবুজ। কচি পাতার কিনারায় খাঁজ কাটা এবং অগ্রপ্রান্ত সূচালো প্রকৃতির হয়।তবে পূর্ণবয়স্ক পাতাগুলি কিন্তু খাঁজকাটা হয় না। প্রত্যেক শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ফুটতে দেখা যায়।

শিউলি ফুলের গাছে চ্যাপ্টা ও হৃৎপিণ্ডাকৃতি ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার হয়। দুই ভাগে বিভক্ত ফলের প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ দেখা যায়। বীজ এবং ডাল কাটিং-এর মাধ্যমে সহজেই শিউলি গাছের বংশবিস্তার ও চারাগাছ তৈরী করা যায়।

শিউলি ফুল
শিউলি ফুল

শিউলি ফুলের কলম

নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিউলি গাছের কলম কাটার মাধ্যমে একটি নতুন চারাগাছ সহজেই তৈরী করা যায়

শিউলি গাছের কাটা কলমটিকে অ্যালকোহলএর মধ্যে ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে তাকে শুকনো করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রোগের বিস্তার রোদ করা যায়।১ চা চামচ বা তার চেয়ে কম একটি ছোট পাত্রে অল্প পরিমাণে মূলের হরমোন নিতে হবে।সমান অংশ পিট এবং পার্লাইট মিশ্রিত করে একটি ছোট থেকে মাঝারি ফুলের পাত্র প্রস্তুত করতে হবে। এমন ফুলের পাত্র ব্যবহার করা উচিত যাতে জল নিকাশী গর্ত রয়েছে।

এরপর পুরো মিশ্রণটি ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং অতিরিক্ত জল যেটি মাটি প্রস্তুত করার সময় পাত্রে ঢালা হয়েছিল তা বার করে দেওয়া উচিত।এরপর প্রায় 3 ইঞ্চি গভীর গর্ত করে কলমটি টবের মাঝখানে রোপন করতে হবে। কমপক্ষে দুটি কলম কাটিং নেওয়া উচিত যাতে চারাগাছটি তৈরী সফল ভাবে হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় ফুল কী?
শেফালি ফুল

কাণ্ডের নীচের অংশের অর্ধেক পাতা ছাঁটাই কাঁচি ব্যবহার করে কেটে ফেলা দরকার। কাণ্ডে কেবল দুটি পাতা রাখতে হবে। এরপর মূলের হরমোন কাটা স্টেমএ প্রয়োগ করতে হবে। কাটিংগুলি একটি রৌদ্রজ্বল স্থানে রাখা উচিত , তবে সরাসরি প্রচন্ড রোদে রাখা উচিত না।

রোপণের পর অল্প পরিমানে জল দিতে হবে এবং নিয়মিত জল দিতে হবে যাতে কান্ডটি শুকিয়ে না যায়।প্রায় আট সপ্তাহের মধ্যে মূলের বিকাশ ঘটে। একবারে মূল পুরোপুরি বিকশিত হয়ে যাওয়ার পরে বাইরে কোনও উপযুক্ত স্থানে পরিণত হওয়ার পরে আরও বড় পাত্রে পুনরায় গাছটিকে রোপন করা উচিত।

৬ টি শিউলি বা শেফালি ফুলের ভেষজ গুন এবং উপকারিতা গুলি হলো:

  • সাইটিকার বা আর্থারাইটিসএ শিউলির পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • কৃমিনাশক হিসেবে দারুণ কাজ করে এই শিউলি পাতা নিঃসৃত রস।
  • মাথার খুশকি দূর করতে শিউলির বীজ বেটে মাখলে উপকার পাওয়া যায়।
  • শিউলি পাতার রস খেলে কাশির সমস্যা থাকলে তা কমে যায়।ঠাণ্ডার সমস্যা থাকলেও খেতে পারেন শিউলি পাতার রস। ২ চামচ পরিমাণ পাতার রস হালকা গরম করে দিনে দুইবার খেলে উপকার পাবেন।
  • বাতের ব্যথার উপশমে প্রতিদিন সকালে এক কাপ জলে দুটি শিউলি পাতা ও দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে ছেঁকে খেলে উপকার পাবেন।
  • শিউলি পাতার রসএ অ্যাণ্টি-অক্সিডেণ্ট ও অ্যাণ্টি-ইনফ্ল্যামেটারি উপাদান রয়েছে যা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ করতে পারে।

শিউলি ফুলের বিজ্ঞানসম্মত নাম কি?

শিউলি ফুলের বিজ্ঞানসম্মত নাম হলো নিকটানথিস আরবর- ট্রিসটিস্ (Nyctanthes arbor-tristis)।

শিউলি বা শেফালি ফুলের ইংরেজি নাম কী?

শিউলি ফুলের ইংরেজি নাম হলো নাইট ফ্লোয়ারিং জেসমিন (Night flowering jasmine) বা হ্যাসান্থ ফ্লোয়ারস (Hyacinth flowers ) বা নাইট ব্লুমিং জেসমিন (night blooming jasmine) বা পারিজাত (Parijat)।

শিউলি ফুলের পাতার উপকারিতা কী?

শিউলির বীজ, পাতা ও ফুল সব কিছুরই ভেষজ গুণ আছে।

পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র

পশ্চিমবঙ্গ ভারত দেশের উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি রাজ্য । ২৩-টি জেলা নিয়ে গঠিত পশ্চিমবঙ্গ একটি বেশ উন্নত রাজ্য। এই রাজ্যের উত্তরদিকে রয়েছে ভূটান দেশ  এবং পশ্চিমবঙ্গের সিকিম রাজ্য, উত্তরপূর্ব দিকে আসাম রাজ্য, পূর্বদিকে আছে বাংলাদেশ, , দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে ওড়িশা রাজ্য, পশ্চিমে বিহার রাজ্য   এবং উত্তরপশ্চিমে নেপাল দেশ দ্বারা ঘেরা।

দক্ষিণদিকে আছে বিখ্যাত হুগলী নদী এবং তার উপনদী ময়ূরাক্ষী, দামোদর, কংসাবতী এবং রূপনারায়ণ। উত্তরীয় হিমালয়ে অবস্থিত জেলাগুলি হলো দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলা এবং উত্তরীয় খরস্রোতা নদী তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা এবং রঞ্জিৎ নদী দ্বারা জলপূর্ণ। পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে গঙ্গা নদী এই  রাজ্যে প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পূর্বে এর প্রধান শাখানদী হুগলি বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে আরো দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।  গঙ্গার দক্ষিণ দিকে যে   জেলাগুলি অবস্থিত তাদের নাম  হল: বাঁকুড়া,পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, বীরভূম,  নদিয়া,ঝাড়গ্রাম , পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর,কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, হাওড়া ।   

এই জেলাগুলি একত্রে দক্ষিণবঙ্গ নামে পরিচিত। দক্ষিণবঙ্গকে পাঁচটি প্রধান ভৌগোলিক অঞ্চলে বিভাজিত করা হয়েছে । যথা- রাঢ় অঞ্চল, উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল, পশ্চিমের মালভূমি ও উচ্চভূমি অঞ্চল,  গাঙ্গেয় বদ্বীপ ও  সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অঞ্চল। উচ্চতার প্রকারভেদের কারণে পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর মধ্যে তারতম্য প্রকাশ পায়। 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য
পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় পাখি কী?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাষ্ট্রীয় পাখি হলো ধলাগলা মাছরাঙা (white-throated kingfisher)।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় পশু কী?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জাতীয় পশু হলো মেছোবিড়াল বা বাঘরোল ( fishing cat)।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় গাছ কী?

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় বৃক্ষ হলো ছাতিম গাছ।

পশ্চিমবঙ্গের আয়তন

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মোট আয়তন হলো ৮৮,৭৫২ বর্গকিলোমিটার (৩৪,২৬৭ বর্গমাইল ) এবং আয়তন অনুসারে ভারতের মধ্যে চৌদ্দতম বৃহত্তম রাজ্য।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় খেলার নাম কী?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জাতীয় খেলা হলো ফুটবল।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর নাম কী?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী হলো কলকাতা ,এটি ভারতের প্রধান শহরগুলির মধ্যে অন্যতম।

পশ্চিমবঙ্গের ব্লক কয়টি?

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মোট ২৩টি জেলা সদর অফিস এবং ৬৬টি এসডিও অফিস এবং প্রায় ৩৪১টি ব্লক অফিস আছে। যে কোনও প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্লক ও এসডিও অফিসের গুরুত্ব অপরিসীম।

আপনার কাছ থেকে আরো ৫ সেকেন্ড চাইছি এই আর্টিকেল টি শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।