২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২২

মাতৃভাষার সাথে মানুষের ঐতিহ্য, আবেগ, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকে।  মানুষের এই আবেগ, ভাষার সাথে জড়িত ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ ও বিশ্বের নানা জায়গায় “মাতৃভাষা দিবস” বা “ভাষা দিবস” (International Mother Language Day) পালন করা হয়। 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

সভ্যতার শুরুর দিন থেকেই মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে চলেছে। কখনো অঙ্গভঙ্গি, কখনো গুহা বা দেওয়াল চিত্র, কখনো মুখের বিভিন্ন শব্দ হয়ে উঠেছে ভাব প্রকাশের মাধ্যম। ক্রমশঃ বিভিন্ন ধরনের মুখ নিঃসৃত এই বিক্ষিপ্ত শব্দই পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে ভাষায় পরিণত হয়েছে। 

বিশ্বজুড়ে অঞ্চলভেদে ভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে, দীর্ঘসময় ধরে সহস্রেরও অধিক ভাষা ও ভাষাগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। কোনো একটি ভাষাগোষ্ঠীর সন্তানেরা তাদের জন্ম থেকে একটি নির্দিষ্ট ভাষায় ভাব প্রকাশ করতে শেখে। এই নির্দিষ্ট ভাষাটি হলো তাদের মাতৃভাষা। 

পড়ুন:- সমস্ত ভ্রমণ গন্তব্য গুলি

Table of Contents

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস

বঙ্গীয় সমাজে আমাদের বাংলা ভাষার অবস্থান এবং গুরুত্ব সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য ভাষা চেতনার জাগরণ হয়।  এই সূত্র ধরে বাংলাদেশে বা পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় (বিভাগের পূর্বে) ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ভাষা বিক্ষোভ শুরু হয়।  

 ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে এই বিষয়টি নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলনের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে।  এই আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে।  তাদের দাবি ছিল বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। 

এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ পুলিশের গুলিতে বরকত, রফিক, সালাম, জাব্বার নামক ছাত্ররা নিহত হন। এছাড়াও অনেক ছাত্র আহত ও হন। এই নৃশংস ঘটনা সাধারণ জনগণের মনে প্রভাব সৃষ্টি করে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল-এর সামনে জনগণ এই নিন্দনীয় ঘটনার প্রতিবাদে সমবেত হন। 

২২ শে ফেব্রুয়ারি জনগণ একইভাবে হোস্টেলের সামনে সমবেত হন। শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ২৩ শে ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলে। এই আন্দোলন দমন করার জন্য ২৬ শে ফেব্রুয়ারী সরকার স্তম্ভটিকে ভেঙে দেয়। সরকারের এই আচরণের ফলে ভাষা আন্দোলন আরও দ্রুতগতি লাভ করে।  

১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। এই সালের ৭ ই মে একটি অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পায়। ১৯৫৬ সালের ২৯ শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পায়। 

১৯৮৭ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে “বাংলা ভাষা প্রচলন বিল” পাশ হয়। এই বিল কার্যকর হয় ১৯৮৭ সালের ৮ ই মার্চে। 

বাংলাদেশে মাতৃভাষা দিবস পালন
বাংলাদেশে মাতৃভাষা দিবস পালন

পড়ুন:- ৫ দিনের গিরিডি মধুপুর দেওঘর ভ্রমণ গাইড কলকাতা থেকে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি

আব্দুস সালাম এবং রফিকুল ইসলাম নামে দুই বাঙালি ভাষাপ্রেমী কানাডায় বসবাস করতেন। তাঁরা  ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবেন। নিজেদের এই ভাবনাকে রূপায়িত করার জন্য তাঁরা ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে আবেদন জানান।

এরপরে এই বিষয়টি সেইসময়ের সেক্রেটারি জেনারেল পদে কর্মরত ফিরদৌস-এর নজরে আসে। তিনি সালাম ও রফিকুলকে জাতিসংঘের অন্য কোনো সদস্যরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের প্রস্তাবের সমর্থন আনার জন্য অনুরোধ করেন। 

এই ঘটনার পরে রফিকুল, সালামকে নিয়ে “মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড” নামক একটি সংগঠন তৈরি করেন। এই সংগঠনে বিভিন্ন ভাষার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সমস্ত সদস্যরা মিলে কফি আনানকে চিঠি লেখেন। চিঠির লেখার মূল লক্ষ্য ছিল ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা। চিঠিটির একটি কপি ইউনাইটেড নেশনস অর্গানাইজেশন বা ইউএনও-এর কানাডীয় দূত ডেভিড ফাওলারের কাছে ও পাঠানো হয়। 

১৯৯৯ সালে চিঠির বিষয় নিয়ে ইউনেস্কো-র (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশন, সাইন্টিফিক এণ্ড কালচালার অর্গানাইজেশন) আনা মারিয়ার সাথে ফাওলারের বৈঠক হয়। মারিয়া তাদের পরামর্শ দেন এই প্রস্তাবের সমর্থনে আরও পাঁচটি দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। এই পাঁচটি দেশ হলো ভারত, ফিনল্যান্ড, বাংলাদেশ, কানাডা এবং হাঙ্গেরি। পরে ২৯ টি দেশ প্রস্তাবটির সমর্থন জানানোর জন্য এগিয়ে আসে। 

ফলস্বরূপ ১৯৯৯ সালের ১৭ ই নভেম্বর ইউনেস্কো-র প্যারিস অধিবেশনে ১৮৮ টি দেশ প্রস্তাবটিকে সমর্থন প্রদান করে। এই অধিবেশনে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।  

 ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর মাতৃভাষা দিবসটি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলি দ্বারা যথেষ্ট সম্মানের সাথে পালিত হচ্ছে। 

ভাষা দিবস
ভাষা দিবস

পড়ুন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য এবং উদ্দেশ্য

মাতৃভাষার গুরুত্ব কোনো একটি জাতির তথা মানুষের জীবনে সর্বোপরি মূল্যবান। ভাষাই মানুষের মনের ভাব ও আবেগ প্রকাশ করতে সাহায্য করে। আমাদের বিশ্ব, বহু জাতি এবং বহুভাষার সংমিশ্রণ। প্রত্যেক  জাতির দায়িত্ব তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা। 

ভাষার প্রতি উৎসর্গ করা দিনটি “ভাষা দিবস” বা “মাতৃভাষা দিবস” নামে পরিচিত। এই দিনটির তাৎপর্য আমাদের জীবনে অপরিসীম। যে কোনো সময়ে সংকটের মুখে পড়তে পারে জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।  এই সংকটের সমাধান হিসাবে প্রতিটি জনগণকে নিজেদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্বুদ্ধ হতে হবে।  

ভাষা দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে মানুষ নিজেদের ও অন্যান্য জাতির ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে সম্মান করতে শেখে। ফলে মানবসমাজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হতে থাকে। 

আমাদের মনে রাখতে হবে পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমেই মানবসভ্যতার জয়গান করা যাবে। সর্বশেষে বলা যায় নিজেদের ও পরস্পরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করাই ভাষা দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। 

International Mother Language Day

পড়ুন:- ৩ দিনের বোলপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান এর গাইড

বাংলাদেশে মাতৃভাষা দিবস পালন

বাংলাদেশ প্রথম থেকেই নিজেদের মাতৃভাষার প্রতি খুব সচেতন। নিজেদের মাতৃভাষাকে তারা নিজেদের মা-এর মতো করেই ভালোবাসে। মাতৃভাষা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের শত শত তরুণ শহীদ হয়েছিলেন। বাংলাদেশে ২১ শে ফেব্রুয়ারি “মাতৃভাষা দিবস” এর পাশাপাশি “শহীদ দিবস” নামেও পরিচিত। ভাষা দিবস উদযাপনের সবচেয়ে নির্মল রঙ বাংলাদেশেই পরিলক্ষিত হয়।  

অধুনা বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হন।  তাঁরা পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এই সময় “আমার ভাই-এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলতে পারি” গানটির করুণ সুর বাজতে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সরকারী ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। 

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি, রেডিও, টেলিভিশন ভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলি বিশেষ প্রতিবেদন এবং ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। স্কুল, কলেজে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকাগণ সম্মিলিতভাবে এই দিনটির আগের দিনে বা পরের দিনে ভাষা দিবস উদযাপন করে থাকেন।

বাংলা একাডেমি গোটা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ঢাকায় বইমেলার আয়োজন করে। এই বইমেলা “একুশে বইমেলা” নামে পরিচিত। 

২০২০ এবং ২০২১ সালে কো-ভিড অতিমারীর কারণে ভার্চুয়ালি ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। 

বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ

পড়ুন:- কলকাতা দুর্গা পূজা

ভারতে মাতৃভাষা দিবস পালন

ভারতবর্ষ বহুভাষা এবং বহু সংস্কৃতির দেশ। বিশ্বজুড়ে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহুভাষিকতাকে প্রচারের জন্য ভারতে ও পশ্চিমবঙ্গে “মাতৃভাষা দিবস” পালিত হয়। 

 ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস উপলক্ষে ভারতে দেশের বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক এবং শিল্পীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন।  এই দিনটিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন- সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা পাঠ ইত্যাদি-এর আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেমন- বিতর্ক, বসে ছবি আঁকো, ক্যুইজ, নাটক পাঠের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলা হয়।  রাস্তায় মিছিল করে, আলপনা আঁকার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি  স্মৃতিজ্ঞাপন করা হয়। 

স্কুল, কলেজে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অভিভাবকেরা মিলিতভাবে ভাষা দিবস উদযাপন করে থাকেন। বিভিন্ন স্কুলে ভাষা দিবস সম্বন্ধীত রচনা, ক্যুইজ প্রতিযোগিতা ও বিতর্কসভার আয়োজন করা হয়। 

শিক্ষক শিক্ষিকাগণ ভাষা দিবসের ইতিহাস এবং গুরুত্ব সম্বন্ধ-এ ভাষণ দেন। এই ভাষণের মাধ্যমে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের নিজের ভাষা চর্চা এবং নিজের ভাষাকে ভালোবাসা, সম্মান করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। ছাত্রছাত্রীরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের মাতৃভাষাকে উপস্থাপিত করতে যাতে গর্ববোধ করে তা শেখানো হয়। 

২০২০ সাল এবং ২০২১ সালে অতিমারীর কারণে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি করে ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। 

২০২১ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপরাষ্ট্রপতি এম.  ভেঙ্কইয়া নাইডু বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় দেশের নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন “ (মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে) ভাষাগত বৈচিত্র্য বরাবরই আমাদের সভ্যতার ভিত্তিস্তম্ভ। কেবলমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমই নয় আমাদের মাতৃভাষাগুলি আমাদের ঐতিহ্যের সাথে সংযুক্ত করে এবং আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে”

পড়ুন:- মার্বেল প্যালেস কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ | সাথে আরো ৬ টি জায়গা

বিদেশের মাটিতে ভাষা দিবস পালন

বিদেশ বলতে আমরা নিজ দেশমাতৃকা ব্যতীত যে কোনো দেশকে বুঝি। ভারতে ও বাংলাদেশে প্রধানত ভাষা দিবসকে মহাসমারোহে পালন করে। শহীদ মিনারের সামনে আলপনা দেওয়া এবং পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। রাস্তায় মিছিল করে, বিভিন্ন সভা, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষা দিবস সসম্মানে পালিত হয়।

বাংলাদেশের মত বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতেও ভাষা দিবস যথেষ্ট সম্মানের সাথে পালিত হয়। বর্তমানে  ২০০ টির অধিক দেশ মাতৃভাষা দিবস পালন করে থাকে। 

প্রতি বছর ইউনেস্কো ভাষা দিবসের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশ্যে বার্তা দেয়। ২০২১ সালে অতিমারীর কারণে অনলাইনের মাধ্যমে ভাষা দিবস পালন হয়েছিল। এই বছর যে বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা হয়েছে। সেগুলি হলো:

  • বহুভাষিক প্রসঙ্গে শিক্ষাদান এবং শিক্ষাগ্রহনের নীতি এবং অনুশীলনকে পূনর্বিবেচনা করা। 
  • শৈশবকালীন শিক্ষা এবং যত্ন শিক্ষার ভিত্তি। সাইন ভাষা সহ বহুভাষার অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা। 

পড়ুন:- কোলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর মেলা ভ্রমণ গাইড

ভাষা দিবস নিয়ে কিছু কথা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ২০০৭ সালে ১৬ ই মে জাতিসংঘের অধিবেশনে “বিশ্বের জনগণের দ্বারা বাবহৃত সমস্ত ভাষার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা” প্রচার করার নির্ণয় নেওয়া হয়। 
  • ২০০৮ সালটি কে জাতিসংঘ “আন্তর্জাতিক ভাষা বছর” হিসাবে ঘোষণা করে । 
  • ২০০৮ সালে জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ছিল “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য” অর্থাৎ বহুভাষিকতা এবং বহুসংস্কৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বোঝাপড়াকে প্রচার করা। 
  • ২০১০ সালে ২১ শে অক্টোবর জাতিসংঘের ৬৫ তম অধিবেশনে প্রতিবছর ভাষা দিবস জাতিসংঘের দ্বারা পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 
  • বিশ্বে কথিত আনুমানিক ৬০০০ ভাষার মধ্যে কেবলমাত্র কয়েকশতাধিক ভাষাকে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পাবলিক ডোমেনে স্থান দেওয়া হয়েছে।
২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২২
বাংলা স্বরবর্ণ

পড়ুন:- পুরুলিয়া অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ গাইড

২১ ফেব্রুয়ারি কেন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস?

বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছিল। এই প্রস্তাবটি ১৯৯৯ সালের ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে অনুমোদিত হয়েছিল এবং ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।

আমরা কেন ভাষা দিবস পালন করি?

আমাদের সমাজ বহুভাষিক এবং বহু সংস্কৃতির মিশ্রণ। আমাদের দেশের ঐতিহাসিক জ্ঞান ,সংস্কৃতি প্রচার এবং সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে আমরা ভাষা দিবস পালন করে থাকি। 

আমরা ভাষা দিবসটি কীভাবে পালন করি?

এই দিনটিতে স্কুল, কলেজ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-এর মাধ্যমে ভাষা দিবস পালন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ওয়ার্কশপ-এর মাধ্যমে আমরা ভাষা দিবস পালন করে থাকি। 

২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের থিম কি ছিল?

২০২০ সালের থিম ছিল “ল্যাঙ্গুয়েজস উইদাউট বর্ডারস” অর্থাৎ “সীমানা ছাড়াই ভাষা”। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি এবং সম্মান সমাজের ঐক্য ও সংহতিকে শক্তিশালী করাই ছিল এই থিমের উদ্দেশ্য। 

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের থিম কি ছিল? 

২০২১ সালের থিম ছিল “ফস্টারইং মাল্টিলিংগুয়াসিম ফর ইনক্লুশন ইন এডুকেশন এন্ড সোসাইটি” অর্থাৎ “শিক্ষা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তির জন্য বহুভাষিকতা উৎসাহিত করা”। 

পড়ুন:- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদনটির উপসংহার

মাতৃভাষা মা-এর ভাষা। মা তার সমস্ত সন্তানকে ভেদাভেদ না করে পরম মমতা ও স্নেহে আগলে রাখে। মাতৃভাষাও একটি নির্দিষ্ট ভাষাগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে আগলে রাখে। 

মাতৃভাষা আমাদের কাছে পরম আবেগের ভাষা। এই আবেগ রক্ষার জন্য আমাদেরকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে। নিজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হল মাতৃভাষাকে সম্মানের সাথে নিজেদের জীবনের অঙ্গ করে নেওয়া। 

মাতৃভাষার বিকৃতি বা ভাষার ঐতিহ্যের অপমান কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। মাতৃভাষার বিকৃতি বা অপসংস্কৃতি বর্জন করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের উচিত তাদের আশেপাশের মানুষদের এই বিষয়ে সচেতন করা। এই লক্ষ্যগুলি সফল হলেই মাতৃভাষা দিবস পালন করা প্রকৃত অর্থে সফল হবে। 

 মাতৃভাষা চর্চার মাধ্যমে পাওয়া যায় “প্রাণের আবেগ, মনের আনন্দ এবং আত্মার শান্তি”। স্কুল,কলেজে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলে বা রচনা, অনুচ্ছেদ লিখলেই ভাষা দিবসকে সম্মান জানানো হয় না। যেদিন আমাদের মাতৃভাষা ব্যবহার করতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাতৃভাষায় কথা বলতে অপমানিত বোধ আসবে না বা আমাদের মর্যাদাহানি হচ্ছে  না বলে মনে করব সেদিন দেওয়া হবে শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। ভাষা দিবসকে দেওয়া হবে প্রকৃত সম্মান। 

সর্বোপরি যে সকল মানুষ নিজেদের ভাষা এবং সংস্কৃতিকে হারাতে চায় না তাদের সবারকে, ২১ শে ফেব্রুয়ারি “শুভ মাতৃভাষা দিবস”এর শুভেচ্ছা। 

ভাষা দিবস সম্পর্কিত উল্লেখ্য উক্তি কি?

ভাষা দিবস সম্পর্কিত নিম্নলিখিত কয়েকটি উক্তি:

  • “আমার ভাই-এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলতে পারি”। 
  • “যে ভাষার জন্যে এমন হন্যে, এমন আকুল হলাম, সে ভাষাতে আমার অধিকার” 
  • “তোমাকে উপড়ে নিলে, বল তবে কি থাকে আমারউনিশশো বাহান্নের  দারুন রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী”। 
আপনার কাছ থেকে আরো ৫ সেকেন্ড চাইছি এই আর্টিকেল টি শেয়ার করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।